পোস্টমডার্ন
স্পিরিচুয়ালিসম; ডম্বরুধরের পোস্টমডার্ন থিসিস- বাই পানু সিংহ
(লেখা
সংগ্রহঃ সব্যসাচী সান্যাল)
সংগ্রাহকের জবানবন্দী
[দুপুরে ১২,
ভোরে ৩, গত বেশ ক ‘দিন । ধ্যান, ধারণা, ব্রহ্মসঙ্গীত, মেডিটেশানে
কাজ হল না। নাকে নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ। কাঁপতে কাঁপতে ভাবলুম – পারলে রবি, না পারলে র্যাঁবো। শ্রদ্ধেয়
পঞ্চাশী-কবিরা পথ দেখিয়েই গেছেন—কবিতা আসুক না আসুক—খালাসীটোলার যাত্রী মাত্রেই
কেঁদো কবি! তাছাড়া চিরকালীন এলিটিস্ট
ওঁচাবিত্ত বাঙ্গালির বিদিশি-প্রীতি থাকবে না – হয় না কী! ট্যারা পঞ্চু জাতে মাতাল তালে
কেলুচরণ – সেও প্রোমোটারি করে বেশ কিছু পয়সা কামিয়ে বললে – “দাদা, এবার থেকে “মোদো-পঞ্চা” বলে ডাকলে
সাড়া দেব না কিন্তু, নতুন নাম নিইচি – ফ্রেঞ্চ—“কোয়াসিমোদো”— আজকাল ওয়াইন খাচ্চি
তো!” ইদিকে আমার উজবেক গুরু ওতাবেক ইমামভ দীর্ঘকাল আগে বলেছিলেন – “বাণী মনে রেখ
হে ইন্ডিশ – কাঁপুনি বাগে না এলে, একমাত্র দাবাই নির্জলা ভোদকা উইথ গুঁড়ো শুকনো
লংকা”। গুরুজী ডাক্তার মানুষ, অশ্বিনীকুমারদ্বয়রে বাটিয়া স্টেথোয় লাগাইয়াছেন —
সুইডেন, নরওয়ে সর্বত্র তাঁহার দাবাই
মোক্ষম ফলপ্রসূ – কিন্তু ওই রাশান দাবাই যেই ভারতে আসিল সেইমাত্র অকার্যকর – দুর্ভাগ্য, ভারতে কম্যুনিজমের দশা অধমের মাথায় ছিল না। রাশান ছাড়া তাবৎ বিশ্বের ডাক্তারি শাস্ত্র বলে –
অ্যালকোহল ইমিউনিটি কমায় – পোক্ত ডিপ্লোম্যাটরেও যথেচ্ছ দারুপান এয়ারপোর্টে
ঝামেলায় ফেলে (পরীক্ষা না করে কথা বলি না মোশাই )। যাক, সেই যে রাশান দাবাইয়ে নাক
টিপে লক্ষী (ইমিউনিটি) হাপিশ হইলেন, ফেরার নাম নাই । জ্বর, জ্বালা, কাশি, হাঁচি,
গাঁটে ও মাথায় ব্যাথা – ইতিমধ্যে ছোকরা সম্পাদকের আদেশ – “দাদা, “ম্যাকারেল”-এর জন্য কবিতা নিয়ে গদ্য লিখতে হবে”। ইমিউনিটি ডাউনের কারণে মস্তক আপনা হইতে কাত। -- “তবে, আপনার ওই
তোড়-ফোড় মার্কা কলমে
হবে না, ধীরে সুস্থে, রেস্পন্সিবল লেখা লিখুন—অনেক লোকে পড়বে”। মাইরি, মনে হল জ্যাঠামশাইকে দৈবাদেশ – “খড়ম পায়েই রাখবা আর
পা য্যান জমিন ছাইড়া এক বিঘৎ-এর বেশি না ওঠে!”। ইমিউনিটি ডাউন – মাথা কাত, নাক দিয়া মেঘনা যমুনা (আর ইমিউনিটি ডাউন হলে মানুষ
করে না এমন কাজ আছে না-কী! জন্মদিনে হাতি গিফট পেলে ব্যাজার মুখ করে সিঁড়ির তলায়
কলাগাছ পোঁতে, বিষম কেলোয় পড়ে খুক খুক করে গান গায় – মরণ রে তুঁহু মম টাংরি কাবাব)। ফলে সেটিরিজিন, ফলে কোডিন ফসফেট আর তারপর যা হয় আর কী--
হুলিয়ে ঝাপসা! আয়নায় নিজের মুখ না দেখতে পেয়ে বুঝলুম—অহো, যার-পর-নাই অবজেক্টিভ
হইয়াছি, তদুপরি শান্ত, হাফ-সমাধিস্থ – হাঁ এইবার রেসপন্সিবল লেখা, ল্যাখা যায়! ডোপ
করিয়া রেসপন্সিবল হইবার সরল পদ্ধতির আবিষ্কারক হিসাবে একটু জয়ধ্বনি হয়ে যাক…
তা যাক,
লিখতে গেলে পড়তে হয়, তত্ত্বালোচনা বিশেষ করতে হয় – মানে কবিতা লিখতে গেলে ওসব না
ভাবলেও চলে, কিন্তু কবিতা নিয়ে
গদ্য লিখতে গেলে কেস গুপিনাথ। ফলে ড্যান্ডি টু ডাডা টু লেডি গাগা সব পড়ে ফড়ে
মনে হল—পাইছি ! কবিতা ইজ আ বাইপ্রোডাক্ট অফ ...—মাইরি! এরপর একান্ন দফা শ্রাদ্ধ
প্লাস সরস্বতী পুজোর ফর্দ নামতে শুরু করল! এই শীতে ঘামতে ঘামতে ভাবলুম – মধু-দা’র
গতি না হয় ! শ্যাসে বিলাইতি ছাইড়া কপোতাক্ষ নদ (বাই দ্য ওয়ে কপোতের চোখের মনি কিন্তু
বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই লাল – লালজলের নদ --দামোদর না রামোদক – সে আপনিই বুঝবেন,
আমারে ঘাঁটাইয়েন না)। তা ঘামলে একটু খিদে-খিদে পায় – অতএব হাংরি আন্দোলন। তা, হাংরি বলতেই ক্যাপিটালে মলয় রায়চৌধুরী, একটু আধটু সমীর
রায়চৌধুরী – মিডিয়াম অক্ষরে শক্তি চট্টোপাধ্যায়, দেবী রায় (হারাধন ধাড়া), উৎপলকুমার
বসু, বিনয় মজুমদার, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়, বাসুদেব দাশগুপ্ত, ফাল্গুনি রায়, ত্রিদিব ও আলো মিত্র, আর পড়া যায় না এমন ফন্টে শৈলেশ্বর ঘোষ, সুবো
আচার্য্য, সুভাষ ঘোষ, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, অনিল করঞ্জাই, করুণানিধান
মুখোপাধ্যায় আর বিলকুল হাওয়া হয়ে যাওয়া অক্ষরে সতীন্দ্র ভৌমিক। ইতিমধ্যে হাতে পড়লো
শৈলেশ্বর ঘোষের, “ঘোড়ার সাথে ভৌতিক
কথোপকথন”—আর খুঁজতে খুঁজতে আচমকা এক পুরোনো শারদীয়া “কবি সম্মেলন” পত্রিকায়
অর্ণব সাহার নেওয়া শৈলেশ্বর ঘোষের ইন্টারভিউ। শৈলেশ্বর এক জায়গায় বলছেন “মলয় রায় চৌধুরী ব’লে কাউকে চিনতাম
না, দু একবার কলকাতায় দেখেছি”, “মলয়, সমীর বা ফাল্গুনি-দের লেখা আমার কোনদিনই ভালো
লাগতনা”, ...শক্তি চট্টোপাধ্যায় ও আমি
হাংরি আন্দোলন শুরু করি। বাকীরা...”
পড়ে ফড়ে চক্ষু ফক্ষু গোলা ময়রার জিলিপি! দেহ ভর্তি সন্দেহ
নিয়ে বিখ্যাত প্রান্তিক ঐতিহাসিক পানু সিংহ’র বৈঠকখানায় হাজির হলুম। পানু বাবু গুণী
মানুষ, পিতৃপ্রদত্ত নাম ছিল ঋতুপর্ণ সিংহ, প্রান্তিক ইতিহাসে এম ফিল ক’রে ব্যাঙ্কশাল
কোর্টে এফিডেবিট মারফৎ যুগপৎ প্রান্তিক ও রাবীন্দ্রিক নাম গ্রহণ করেছেন।
রিসেন্টলি কিনিয়া গেছিলেন—প্রান্তিক জিরাফ (যাঁরা ঘাসে রুচি রাখেন) -দের জন্য শ’য়ে শ’য়ে
আঠেরো-হাতি ট্রেঞ্চ খুঁড়ে এসেছেন (সাফারির গাড়ি দমাদ্দম গাড্ডায়—এ খবর সি এন এন-এ)
। পানুবাবু মেঝেয় বসে—বকের ডানার কলম দিয়ে তেজপাতায় কী সব লিখছিলেন। সব শুনে বললেন--
“দ্যাকো বাবা, শৈলেশ্বর যে হাংরি আন্দোলনের শুরুতে মলয়, সমীর কাউকে দ্যাকেননি সেটা কী খুব আশ্চর্যের
ব্যাপার? তুমিই বল, বাতাস কী দ্যাকা যায়! ধুলো না উড়লে! বিস্তর কেলো হল, ধুল-ধামাকা
হল, তকন গিয়ে মলয়, সমীর দ্যাকা পড়লেন, চোকের বালি হয়ে দ্যাকা পড়লেন, চোক কটকট
করিয়ে প্রকট হলেন।” “তা বাবা খেতে দেতে তো পাও—নাকী! হাংরি নিয়ে এমন পেচন ব্যাথা কেন?” বল্লুম, “পত্রিকার আদেশ, কবিতা নিয়ে গদ্য লিখতে হবে”। পানু বাবু ভাবলেন। খানিকক্ষণ আরো ভাবলেন। তাপ্পর উচ্চকিয়ে বললেন, “কবিতার কী দরকার !
প্রান্তিক থিসিস লিকচি—সেটা ছাপার ব্যবস্তা কর না বাপু !” বল্লুম, “ওনারা মনে
হয় মেনস্ট্রীম, প্রান্তিক জিনিস নেবেন কী?” পানু বাবু রেগে কাঁই – বল্লেন, “পাঁটা
নাকী! সীতা আউর গীতা সিনেমার আগে রামায়ন, মহাভারতও প্রান্তিক ছিল, অ্যাকন দেকেচ কী
রমরমা!”, বাউল গানের মেন্সট্রীমাইজেশান দ্যাকোনি! “নিমন্ত্রণের” জায়গায় “টেলিফোন”
বসিয়ে দিলেই চাদ্দিকে চমকে হু-হা করে চলে”। ভাবলুম, কেস মন্দ নয়, নিজের লেখালিখির
হাত থেকেও মুক্তি পাব, আর প্রান্তিক মাল সাপ্লায়ার হিসেবে নাম-টাম নির্ঘাত
চিত্রগুপ্ত সায়েবের খাতা ছাড়াও কোথাও না কোথাও লেখা থাকবে—তা, রাজী হয়ে গেলুম। বাকী-টা বাজারের
ডিসক্রিশান, ম্যাকারেল না নিলে সার্ডিন আছে।]
পোস্টমডার্ন স্পিরিচুয়ালিসম; ডম্বরুধরের পোস্টমডার্ন থিসিস
পানু সিংহ
ভিজা বাতাস
বহে মৃদু মৃদু
ডোবার সৌরভ
পাদুপাদু
ভিজা বাতাস
মৃদু বহিতেছিল। ভেকগণ জলমাঝে গনোরিয়া-গনোরিয়া খেলিতে ছিল। সরোজিনী ঘোষবাবুদের রাজহাঁস চুরি করিতেছিল। দূর্লভী বাগদিনি
আট-হাতি মুর্শিদাবাদী গামছায় তনু ঢাকিয়া প্রাচীরে সশব্দে ঘুঁটে দিতেছিলেন।
অরণ্যদেব শসার টুকরা শেষ করিয়া মাঝে মাঝে
তৃষিত নয়নে শসার বাটির দিকে নজর দিতেছিলেন,
দীর্ঘশ্বাস মোচন করিতেছিলেন, এবং উদাস রূপে বিচি চুলকাইতেছিলেন। ডম্বরুধর
এক চক্ষে সরোজিনী অপর নয়নে দূর্লভীরে ব্যালেন্স করিতে করিতে শসা চিবাইতেছিলেন ও
শসার বাটিখানি আগলাইতেছিলেন। ডম্বরুধরের বয়স নব্বই, চেহারা নেগেটিভ মাকাল
ফলের ন্যায়, ঘোর কৃষ্ণবর্ণ ও সারাজলাভাবে যারপরনাই শুষ্ক। দীর্ঘকাল
তাম্বুলসেবনহেতু তাঁহার ওষ্ঠাধরের সংযোগস্থলে দুইটি শাদা লম্বা দাগ—দেখিলে মনে হয়
সেরেস্তার কাগজভক্ষণ করিয়া দুইটি শুঁয়াপোকা শ্বেতআমাশাক্রান্ত হইয়া বিষ্ঠাত্যাগ
করিতে করিতে হড়কাইয়া নামিয়া গেছেন।
অরণ্যদেবের চেহারা বা বয়েস মুখোসের আড়ালে প্রতীয়মান হয় না, তবে দিব্য
বোঝা যায় মুখোসটির বয়স বেশ খানিক হইয়াছে। কথিত, এই সুন্দরবন সংলগ্ন জনপদে প্রাক্তন
অরণ্যদেব (কীট) ও ডায়নাপূত্র নব্য অরণ্যদেব, বোম বেটে খান নামক মগ জলদস্যুর মোকাবিলায় আসিয়া, স্থানীয় সুন্দরী বায়না আলম-এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হইয়া লভ
ম্যারেজ করেন ও পাকাপাকি ভাবে এই দেশে রহিয়া যান। অরণ্যদেব বিবি বায়নার নিমিত্তে
সকাল হইতে ডোবা সংলগ্ন জংলা এলাকা হইতে এক বোঁচকা হিঞ্চে ও কলমী শাক তুলিয়া
বাতে কাবু হইয়াছিলেন। তদুপরি তাঁহার একমাত্র পোশাক, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত
পাতলুন ও জাঙ্গিয়া দীর্ঘকাল সাবাং-এর মুখ দেখে নাই এবং বাঙ্গালামুলুকের আর্দ্র জলহাওয়ায় তাহা ঘামিতে ঘামিতে, দৈহিক নিঃসরণের সাথে মিলিয়া মিশিয়া আনাচে
কানাচে প্রস্তরের ন্যায় হইয়া উঠিছে। ফলে কুঁচকিতে দাদ। অরণ্যদেব তাঁহার
অঙ্গুরীয়দ্বয় বন্ধক রাখিয়া দাদের মলম কিনিয়াছিলেন – এক বেটা ডুপ্লিকেট ঢোল কোম্পানীর
মলম, বিশেষ সুরাহা হয় নাই। বাত ও দাদে যার পর নাই ব্যাতিব্যস্ত অরণ্যদেব ডম্বরুর কাছে
প্রতিকারের নিমিত্তে হাজির হওয়ায় ডম্বরু তাঁহাকে সাদর সম্ভাষণে খাটিয়াতে বসিতে দেন
ও নিজ বাটি হইতে এক কুচি শসা অফার করেন। শসার কুচি বেমালুম হজম হইয়া গিয়াছে। ডম্বরুধর এক চক্ষে
সরোজিনী অপর নয়নে দূর্লভীরে ব্যালেন্স করিতে করিতে শসা চিবাইতেছেন ও শসার বাটিখানি আগলাইতেছেন। দূর্লভী বাগদিনি আট-হাতি মুর্শিদাবাদী গামছায় তনু ঢাকিয়া
প্রাচীরে সশব্দে ঘুঁটে দিতেছেন। সরোজিনী ঘোষবাবুদের রাজহাঁস চুরি করিতেছেন। ভেকগণ
জলমাঝে গনোরিয়া-গনোরিয়া খেলিতেছে। ভিজা বাতাস মৃদু বহিতেছে।
ডম্বরু
বলিলেন—“এই যে আমার বদন দেখিতেছ ইহা বর্তমানে বাদুড়ভুক্ত নষ্ট মাকালের ন্যায় হইলেও
এককালে আমারো চেহারা কালা সায়েবের ন্যায় ছিল। আমার হেডে এখন দুই এক গাছি শণের নুড়ি দেখিতে পাও
বটে, কিন্তু সে কালে আমার টাক চকচক করিত আর লোকে বিস্ময়ে মুখ হাঁ করিয়া
তাকাইয়া থাকিত, মাছিগণ সেই হাঁ-য়ে প্রবেশ করিয়া ডিম পাড়িয়া যাইত, মাছির ডিম খাইতে
হামিং বার্ড আসিত তথাপি লোকজন হাঁ বন্ধ করিতে পারিত না। এই হাঁ রোগে
আক্রান্ত হইয়া বাংলাদেশে মড়ক শুরু হইলে খান বাহাদুর শায়েস্তা খানের অনুরোধে খোদ
হানিম্যান সায়েব আসিয়া নাইট্রেট নামক হোমিও দাবাই প্রয়োগ করিয়া বঙ্গদেশ-কে রক্ষা
করেন। পাড়ার আঁটকুড়ের ব্যাটা, ব্যাদড়া ছোড়ারা কালাচাঁদ, টাকবাহাদুর, টাকচৌধুরী,
টাকদুরুদুরু বলিয়া আমারে খেপাইলেও সে টাকের জ্যোতি নিয়া স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল বা শংকরের কোন সন্দেহ
ছিল না। ডার্ক ম্যাটার নিয়ে সায়েব বেটারা যে আজ এত মাতামাতি করে সে আমার টাকের
খুসকি। হুঁহুঁ বাবা! বাত ও দাদ নিয়া আমার নিকটে চাল মারিও না। পাড়ার কেষ্ট মন্ডল একবার ঘোরতর বোগদাদি বাত ও
দাদে পীড়িত হইয়াছিল সেই বাত হইতে রবিঠাকুর "বাতায়ন" ও বঙ্কিমচন্দ্র
"দাদখানি" শব্দগুলি আবিষ্কার করেন। সেই বাত ও দাদ আমারই সৃষ্টি । আজ
দুইপাতা ইংরাজী পাঠ করিয়া ইয়াং ছোকরারা আমারে পূরাতন বৃদ্ধ বলিয়া অবহেলা করিয়া
থাকে – কিন্তু তাহারা এ বিষয়ে জানেও না যে পৃথিবীর ছয় ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরিয়া
এই শর্মা, আধুনিক, পরাধুনিক, উত্তরাধুনিক, রিলিজিয়ন ইত্যাদি ব্যাপারে প্রভূত জ্ঞান
অর্জন করিয়াছে। এই দুইমাস পূর্বে ক্যানিং লোকালে সীট নিয়া বচসা হইলে এক ছোকরার
খাতা আমি বলপূর্বক কাড়িয়া লই, তাহাতে অনেক গম্ভীর গম্ভীর ইংরাজী কথা রহিয়াছে—ওই
লেখা পড়িতে পড়িতে আমার তিন চারটি দাঁত ভাঙ্গিলেও, আমি সেই লেখাকে হাত ছাড়া করিনাই
– মনে স্থির করিয়াছি এই সব ভারী ভারী বাক্য লইয়া দক্ষিণবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হইতে পি
এইচ ডি করিব। এই বুড়া বয়সে ডাক্তারি পাশ করিলে বিপদে আপদে চিকিৎসা করিয়া
জীবননির্বাহ করিতে পাইব। তদুপরি খবরের কাগজে নাম উঠিলে আমাকে নিয়া মস্করা করিতেও
কেহ সাহস পাইবে না। ভাবিতেছ গুল! এই নাও, আমার গবেষণার কিছু শ্রবণ করিয়া চুলকুনি ও ব্যাথার উপশম কর।“
কবীরা খড়া
বজার মে, দেহুঁ লন্ড লটকায়
জিসকো জিতনা
লেনা হো, কাট কাট কে লে যায়
---------------------------------
...spirituality
was not my cup of tea either, but then life has this habit of biting you in
untoward places. I turned spiritual at the beginning of this millennium and I am pretty proud of the fact that at
any given time and place I’ve at least a pint of vodka coursing through my
blood and almost half of it has passed through the blood-brain barrier and is playing “snakes and ladders” with the neurons.
জীবন মানে
হয় উকো (Occult) নয় ফুকো (Foucault). উকো মডার্ণ, ফুকো পোস্ট, উকো স্ট্রাকচারাল, ফুকো পোস্ট – উকোয় আর কী কী করে/করতে
পারে লিপিবদ্ধ নয় (বটতলা বেসড বাপি তান্ত্রিকের সাথে কথা বলতে পারেন) তবে গরুকে
ফুকো মারলে দুধ হয়—এ মোটামুটি খনা’র সময় থেকে সাধারণ জ্ঞান।
Life is a
bummer, even “god” was sure of it, I guess, so he invented “death”, a clockwork
device that goes “aha aha” (with a capital A) at the slightest
provocation—shake the chow-mien off me and don’t you bloody dare give me that oblique stare—so what was I saying! Oh,
yes, life is a bummer and has this habit of biting you at your unmentionables
bypassing all order of things. Well, what else can one do than turn spiritual
and look for a structure (even where emptiness stares back with inten-fucking-sity).
Structure is business and “post-structure” is a business-proposition, ditto for
modern and post-modern. For example, my eldest son (all 10 years of wisdom
hammered and cajoled into a four-feet, few inches, 25 Kg frame) is a modernist,
he wants to buy a lot of Jeans and biceps and all things shining and trendy to
impress girls and my youngest couple of sons (aged 30 months) are
post-modernists, i.e they are prone to thud thud, bang, crash and shatter
everything within their reach. Let me remind you again, modern is business and
post-modern is business waiting- to-happen (because if you really really need
something done you don’t usually leave it to the post-modernists). Now both
leave a gigantic crater in your pockets. But you see, life is so much better,
if that crater is filled with spirit (read Vodka)—and that essentially
reinforces my conviction to convert to hardcore spiritualism.
Order Order!
“order” is the word of the day since time started taking a piss (which
essentially is at the beginning of time). The point is, don’t look for a point
in a structure or “post-structure”. A point simply doesn’t exist {remember
big-bang ! it ate through all the points, if some scattered ones remained
hidden in the jungles of Africa, King-Kong got to them first, leaving none for
Tarzan of the Apes; Tarzan had to be content with Zen (often misspelled as
“Jane”) instead }.
It’s time we
get to know “spirituality”, spirit flows, a point could never do that even when
trained by Michael Jackson. A point is individualistic, stubborn, at your face,
while spirit in one form or other crosses every barrier {vampires have a knack
of doing that too, or for example a sublime fart (well farting is an organic
sublimation: so it’s a bit of obvious; never mind)}—social or otherwise, hence
spirit is the ultimate “sociocrat”. It’s important to note here, all types of
“Crats” are species of rats who prefer a prefix ending obligatorily with a “C”,
probably to shock a cat, I mean “crat” definitely sounds a lot more bigger, meaner
and ominous than a cat. And remember, curiosity kills the “crat”, I mean
whether you are a demo version of a crat or a social, or a hypocritical one or
for what it matters an “aristo” (whatever it means other than
“unambiguous”)—curiosity shouldn’t really be your poison.
If you are
curious enough to ask for a point, you are shown a large wooden stake with a
diamond-tip that should penetrate almost anything with an imaginable thickness.
You ask for a confirmation to your theory on “Relevance of Stockholm syndrome
in an apparent constitutional democracy and the evolution of interrelation
between the exploiters and the exploited” – you will be given a mathematical
answer that outweighs “one metric ton” and comes with this state-of-the art
logic of a 200 meter long dead-bolt and basically the whole metric system
dangling from it (it’s called statistics).
Spirit is
alright though, better if methylated, spirit symbolizes religion, it symbolizes
the mean of your mean-ness plus/minus standard rate of errors. See, religion
with the right amount of economics absolves everything, including gravest
errors, and error bars are always used as crowns of the means.
Deep down we
know everything ultimately goes to the pigs, i.e transformed to shit, theories,
principles, undigested coconuts and fish guts, and the Newton’s laws of physics
(especially in the true spirit of things), after a bit of digestion. However, post-modernism
is a process of making the same shit at a faster pace, i.e. without the
“digestion” part. In truth, too much spirit may modify your gastro-intestinal
tract (not to mention liver) in the most favourable manner so that nothing of
this worldly muck is absorbed. That kind of cuts spiritualism and
post-modernism out of the same piece of lingerie—so that they can start arguing
from a position of equal footing, atom by atom... Like the mirror image
fighting its mirror image...
No comments:
Post a Comment