ঘর সমাচার
আলো লুকিয়ে রাখা একটা
দিন। ১৮-২০ জন
মানুষের উপস্থিতি পুরোপুরি নগ্ন করে রেখেছে কবরস্থানটিকে। কবর খোঁড়ার কাজ শেষ।
এবার দাফনের পালা। বৃদ্ধা মা আর দূরসম্পর্কের আত্মীয়রা শরীক হয়েছে জানাজায়। নোভা
আর ওর স্বামী আমিনও দাঁড়িয়ে ছিল একপাশে। ছোট মেয়ে ইলার মৃতদেহ দেখার মতো দুরভাগ্যও
তার জন্য জমা ছিল এটা ভাবতেই এক বিস্মরণ সুড়ঙ্গে ঢুকে যায় বৃদ্ধা। আট বছর আগে চলে
গেছে স্বামী। এরপর থেকে পত্রহীন বৃক্ষের মতো এই মানুষটির বেঁচে থাকা জুড়ে নেই কোন
আন্তরিক ঘ্রাণ। তিন ভাইয়ের কেউই শেষ দেখা দেখতে চায়নি বোনকে। নানা
দ্বন্দ্বের জের ধরে ওদের সম্পর্ক মরে গেছে আরও আগেই। বৃদ্ধার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে
অযাচিত ধ্বনি-প্রতিধ্বনির আঁচে। মনে হয় এই সেদিন, তবু পাঁচটি বছর ঘুরে
গেছে ধ্বংসের মধ্য দিয়ে। মেঝো মেয়ে নোভার স্বামী আমিনের দিকে চোখ পড়তেই বৃদ্ধা
ঘৃণায় শিউড়ে উঠলো। মনে মনে বলল- আহ লোভ! আহ দুর্গন্ধ! বৃদ্ধার চোখের সামনে ঘটে
যাওয়া ঘটনাগুলো সত্য নয়, ঘটনাগুলো মিথ্যে নয়। সত্য-মিথ্যের
ঊর্ধ্বে রহস্যের ভারে নত।
ঘটনার শুরু এক
সন্ধ্যায়। না তারও আগে এটি ছিল একটা নতুন রাস্তা তৈরির প্রক্রিয়া। এক পা, দু’পা
করেঅনেক পর্যবেক্ষণ শেষে সন্ধ্যায় ঢিলটি ছোড়া হয়। একমুহূর্ত না ভেবে উঠোনভর্তি কাদা আর সকাল
থেকে চলমান ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির মধ্যে নেমে পড়ল ইলা। ছাতা নেয়ার কথা মনেই আসেনি।
তাছাড়া ছাতা ধরার মতো শক্তিও ছিল না হাতে। বাতাসে বাঁশপাতা কাঁপার মতো তিরতির
কেঁপে উঠা ইলা সাধ্যমত দীর্ঘ পদক্ষেপ ফেলে পৌঁছে যাচ্ছে যেখানে পৌঁছানোর কথা ছিল
না ওর। এক ঘণ্টা আগে উড়ে আসা একটা চিরকুট ওকে স্পর্শ করতেই খেই হারিয়ে ফেলেছে ইলা।
চিরকুটটা অন্যকেউ দেখার আগেই সামলে নিয়েছিল। যদিও বিষয়টির গোপনীয়তা অক্ষত থাকবার
মত নয়। বৃষ্টিকেআরও প্রকট করে হলুদ একটা সন্ধ্যা নেমে আসছে। পিচ্ছিল পথে থোকা থোকা
ছড়িয়ে আছে কদম। যেন তা কোন সীমানার চিহ্ন, যা পেরুলেই দিক নেই। আমিনের
দেয়া চিরকুটে লেখা ছিল- ‘পুকুরপাড়ে কথা আছে জরুরি। এক ঘণ্টা
পর। না এলে পস্তাবে।’
অবশেষে পৌঁছল ইলা
পুকুরঘাটের শ্যাওলাজমা সিঁড়িগুলোর কিনারে, যেখানে বৃক্ষরা মিলে শেষ
আলোটুকু গিলে ফেলেছে। হঠাৎ পায়ের শব্দে ভারি নিঃশ্বাসগুলো বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম
হল। ভয় পেয়ে ফিরে দেখে একটা বাদামীরঙের কুকুর পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে ওকে। এখানে না
এলেও পারতো সে তবু মনের কোথাও একটা ভয় অচেতনেই কাঁপাচ্ছিল ওকে।কিছুক্ষণ পর আবারও
শব্দ। এবার স্থির রইল ইলা। অপেক্ষার বিরক্তিবোধে ঠোঁট শুকিয়ে গেছে। কি এমন কথা –
ভাবতে ভাবতে বারবার শিউরে উঠছে ও।
বাবা মারা যাবার পর
বিশাল সম্পত্তির সবটাই ৬ ভাই-বোনদের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে। জনপ্রতি যে সম্পদ পেয়েছে
ওরা তা দিয়ে অন্তত সাধারণভাবে নিশ্চিন্তে জীবন পার করা যাবে। ভাই-বোনদের মধ্যে ইলা
সবার ছোট। অবিবাহিত। একজনকে ভালবাসত কিন্তু পরিণামে প্রত্যাখ্যান ছাড়া আর কিছু
পায়নি। কারণ ইলার শরীর বেশ ভারি ধরণের। শরীরে বাসা বেঁধেছিল নানা রোগ। ২৮ বছর বয়সে
ওর ওজন ছিল প্রায় ৮৫। পড়ালেখাও বেশি করেনি। ক্লাস ফোর কি ফাইভ পর্যন্ত। যে ছেলেকে
পছন্দ করতো সে ছিল বেশ আকর্ষণীয় এবং আই এ পাশ। মা মারা যাওয়ায় আর পড়াশোনা চালিয়ে
যেতে পারেনি। ইলাকে সে কৌশলে এড়িয়ে চলতো আর ইলাও তাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। কোন ছেলে
ওর প্রেমে পড়বে না এটা ধরে নিয়েই সে নিজের মতো করে বাঁচতে চায়। হোক একা থাকা
যন্ত্রণার তবু সে কারো কাছে যাওয়ার কথা ভাবেনি ব্যক্তিগত দুঃখ নিয়ে। আর ওর আপন বোন
নোভার স্বামী কি না ওকেই বেছে নিল ভালবাসার টোপ ফেলতে। বছর সাতেক আগে এই আপাত ভদ্র
লোকটা ভালবেসেই বিয়ে করেছিল নোভাকে।
ধীরে ধীরে দিনগুলো
বুড়িগঙ্গার জলের মত কুচকুচে কালো হয়ে গেল, যে কালোকে অন্ধকারও ভয় পায়।
কেননা সে জলের ঢেউ বিষাক্ত আর লাশ পচা গন্ধের চেয়ে উৎকট। পেছন থেকে এসে দাঁড়াল
আমিন। ইলার হাত চেপে ধরে জিজ্ঞেস করল, কখন এসেছ কোন সমস্যা
হয়নি তো?
ইলা হাত সরিয়ে নিয়ে
বিরক্তির সঙ্গে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনি আসলে কি চান ? আমাকে বিরক্ত না করে নিজের মতো থাকেন।’ আমিন নিচু স্বরে বলল ‘তুমি একা থাকো, আমার দুশ্চিন্তা হয়। আমাদের বাসায়
এসে থাকতে পারো তুমি। একা থাকার চেয়ে এটা বরং ভালো।’ ইলা খানিক বিরক্তি নিয়ে বলল,
একা কেন হবে আমার মা এখনো বেঁচে আছেন... প্রত্যুত্তরে আমিন বলল,
যে নিজেই অসুস্থ সে যুবতী মেয়ের খেয়াল রাখবে কি করে! এরপর বানোয়াট
সহানুভূতি পকেটে গুঁজে একটা সিগারেট ধরিয়ে তা টানতে লাগলো অধৈর্যের সঙ্গে। তারপর
জানাল, ‘আজ আর কাল আমার কথা তোমাকে শুনতেই হবে। এতেই তোমার
মঙ্গল।’
তারপর মুহূর্তের
মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল। ইলাও ঘরে
ফিরে এলো কাঁদামাখা স্যান্ডেলের ছাপ নিয়ে। ঘরে ঢুকে এতক্ষণ শুকিয়ে থাকা গলাকে
স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে এক গ্লাস পানি নিয়ে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই
কয়েকটা সম্মিলিত হাসির স্বর ভেসে এলো। সেই হাসির আওয়াজগুলো ওর কানে বাড়ি খেয়ে
উঠোনের ছিমছিমে পরিবেশের মধ্যে হারিয়ে গেল চিরতরে। বুঝতে পারল পাশের ঘরে ওর ভাইয়ের
বউয়েরা গল্প আর হাসিতে সন্ধ্যাটাকে মাতিয়ে রেখেছে। হঠাৎ মায়ের কণ্ঠে চমকে তাকায়
ইলা। তার বয়স হয়েছে প্রায় আশি। চোখে দেখতে পায় না ঠিকঠাক। তিনি অনেক খাট। খাট
হওয়ার প্রতিযোগিতা এ সংসারে শুরু হয়েছে তার হাত ধরেই। ইলার বাবা অবশ্য লম্বা ছিলেন বেশ। বড় চার ভাই-বোন বাবার মতই অধিক
উচ্চতা সম্পন্ন। ইলার ছোট ভাই আর ইলা বয়ে বেড়াচ্ছে মায়ের উচ্চতা। মা যখন বলল
বৃষ্টির দিন, শীত শীত লাগছে। আয় খেয়ে শুয়ে পড়ি। তখন ইলা যেন
বুঝতেই পারেনি মায়ের কথা। পুনরায় একই কথা উচ্চারিত হলে ইলার আবারও বুঝতে কষ্ট হয়ে
যায়, যেন রাতের খাবারের সঙ্গেওর পরিচয় ছিল না কোনদিন।
প্রত্যুত্তর দিতে গিয়ে ইলার গলা কাঁপল দ্বিধায়। ইলা বিস্মিত না হয়ে পারল না যখন
খেয়াল করল ওর গলায় শুধু দ্বিধা নয়, একটা অপরাধবোধও আছে। ইলা কি তবে এর মধ্যে মেনে নিতে শুরু করেছে ওর
দুলাভাইয়ের অশ্লীল প্রস্তাবটাকে! নাকি সেটা নিছক অশ্লীল নয়। ওটাতে ইলারও সম্মতি
ছিল অজান্তে! যখন আমিন বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে সবচাইতে সুন্দর আর বিশেষ উপহারটি
আড়ালে ইলার হাতে তুলে দিত তখন থেকেই কি ইলা নদীর অন্য একটা তীরের আভাস পায়নি ? ক্লান্ত
গলায় ইলা মাকে জানাল, ওর ক্ষুধা নেই। অজুহাতটা মিথ্যে নয়
পুরোপুরি। তবু এটা ছিল শেষপর্যন্ত একটা অপরাধবোধ যা তাকে কারো উপস্থিতি বহন করার সামর্থ্য
দেয়নি।
আমিনের প্রস্তাবটিকে
অমীমাংসিত রেখে কেটে গেল বেশকিছু দিন। তার মধ্যে ঘটনা মোড় নিল অন্যদিকে। একরাতে
ইলার ছোট ভাবি শারমিন টের পেল ইলার ঘরে একটা পুরুষকণ্ঠ। ফিসফিস কথা আর নড়াচড়ার
শব্দ। তা মাঝরাতের দিকে হবে। শারমিন চুপচাপ ঘরে গিয়ে স্বামীকে ডেকে তুলল। তার পর
পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে হাতেনাতে ধরল আমিনকে। অনেক জিজ্ঞাসাবাদের পরও টুশব্দটি
করেনি ইলা বা আমিন। সেই রাতে আমিনকে অপমান করে বের করে দেয়া হয়। ইলার সঙ্গে আর
ভালমন্দ কোন কথা হয়নি ভাইদের। সপ্তাহ খানেক পর নোভার অসুস্থতার ছুতোয় ইলাকে ওর
বাড়িতে যাবার জন্য খবর পাঠাল। আর ইলাও কারো পরামর্শ নেয়ার প্রয়োজন মনে না করে একার
সিদ্ধান্তে চলে গেল। যাবার সময় শুধু মাকে জড়িয়ে ধরে বিদায় নিল। বৃদ্ধা কোন কথাই
বলেনি। আসলে তার কণ্ঠনালী দারুণ কাঁপছিল যেন কেউ ঝাঁকি দিয়ে কথা ঝরিয়ে দিয়েছে।
আলিঙ্গনও ফেরত দেয়নি মেয়েকে। প্রত্যুত্তরে শীতল হয়ে গিয়েছিল।
জানাজা শুরু হবে
কিছুক্ষণের মধ্যেই। এখনো বৃদ্ধার সঞ্চয়ে আছে কেবল একটানা কাঁপুনি। ইলা বাড়ি ছেড়ে
নোভার কাছে চলে যাবার পর থেকে নোভার পরিবারের হালচাল যে বৃদ্ধার জানা হয়নি তা নয়।
বরং তা উৎকট গন্ধের মতো নাড়া দিয়েছে বাড়ির অন্যদের ঘ্রাণ ইন্দ্রিয়কেও। নোভা
স্বামীর মতের বিরুদ্ধে কিচ্ছু বলেনি। উল্টো ভান
করেছে বোনকে পেয়ে সে খুশি। আমিনের দুই মেয়েও খালাকে পেয়ে স্কুল ছুটির মতো আনন্দিত
হয়েছে। নোভার অসুখটা তেমন কিছু নয়, সামান্য জ্বর। বোনকে দেখে
জড়িয়ে ধরে কাঁদতে চেয়েও কাঁদল না। রাতের খাবারের সময় আমিন সবার মুখের দিকে একবার
করে তাকিয়ে নিজের প্লেটে মনোযোগ দিতে দিতে ইলাকে বলল- এখানে কোন অসুবিধা হলে
জানিও। ইলা কর্ণপাতই করেনি ওর কথায়। কয়েকদিন পর নোভার জ্বর আরও বাড়ল। এবার ওরা
স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ইলাকে পরামর্শ দিল- ওর সব সম্পত্তি বিক্রি করে এখানে একবারে
চলে আসতে। যেন ভাইয়েরা ওর দুশমন। আর ইলাও ওদের কথা মেনে নিল। বিচার বিবেচনা লোপ
পেয়েছিল নাকি কোন ঘোরের মধ্য দিয়ে নিজেকে অনুপস্থিত রাখার ভান করছিল ইলা সেটা কারো
বোধগম্য নয়, হয়তো সে নিজেও বোঝেনি। সেবার বাড়ি থেকে নিজের
সম্পত্তির ভাগ আনতে গিয়ে ভাইদের সঙ্গে চূড়ান্ত কলহ বাঁধে। সঙ্গত কারণেই ওরা কেউ
চায়নি ইলা এভাবে অন্যের কাছে গিয়ে থাকুক। কিন্তু কারো কথা শুনতে প্রস্তুত নয় সে।
বোনের সংসারে একটা প্রশান্তিও বোধ হয় খুঁজে পেয়েছিল। নয়তো নিজের ভালোর কথা ও কেন
ভাববে না, কেন বুঝতে পারবে না ও ভুল পথে যাচ্ছে। বোনের সংসারে
কেটে গেছে ৩/৪ বছর। আগের অসুখগুলো দ্বিগুন হয়ে ফেরত এসেছে ওর কাছে। জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট এসবে বিছানাবন্দী হয়ে পড়ল ক্রমেই।
আমিন বলেছিল ওকে
ভালবাসে। সত্যি বলেছিল নাকি সম্পত্তি আত্মসাৎ করার লোভটাই আসল ? ওদের
মধ্যে কি গভীর কোন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল ? এসব প্রশ্নের উত্তর
আর জানা সম্ভব নয়। কারণ ইলা আর সক্ষম নয় কিছু জানাতে। আর আমিনের চরিত্রে সদুত্তর
পাওয়ার মতো কোন সম্ভাবনা নেই। কিছু রহস্য জানা না থাকলেও সবাই আন্দাজ করতে পেরেছে
ইলার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। অসুখ সারানোর নাম করে ভুলভাল ওষুধ ক্রমাগত খাওয়ানোর
কারণে ইলার মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগও শোনা গেছে। আর তা ইলাই ইঙ্গিতে বলেছিল ওর এক
বান্ধবীকে। যখন ওই বান্ধবী অসুখের খবর পেয়ে ইলাকে দেখতে যায়। স্পষ্ট করে বলতে
চায়নি যদিও। আর এখন সেই একটুকরো কথাকে সম্বল করে কে এগিয়ে যাবে প্রতিবাদ করতে। কেউ তো রাজি ছিল না এ যাওয়ায়। ইলার টাকাপয়সারও
কোন হদিশ মেলেনি।অনেক দুর্ভাবনার অতল থেকে সম্বিৎফিরে পেয়ে বৃদ্ধা খেয়াল করলেন তার
চোখে কান্নার রেশটুকুও নেই। একই সঙ্গে নিজেকে অভিযুক্ত করলেন, মেয়ের
অসুস্থতার খবর বারবার পেয়েও কেন দেখতে যাননি।ইলাকে নামানো হচ্ছে কবরে। ভাইয়েরা
আড়ালে কেঁদেছে কিন্তু শেষবারের মতো দেখার সাহস পায়নি বোনের মুখ। ধীরে ধীরে মাটির
আড়ালে ঢাকা পড়ে গেল মেয়েটির শরীর। বৃদ্ধার তখনই ইচ্ছে করল মেয়েকে আরেকবার জড়িয়ে
ধরতে। ইলা বাড়ি ছেড়ে চলে যাবার সময় মাকে জড়িয়ে ভয়ঙ্কর শীতলতা পেয়ে অসহায়ের মতো
দ্রুত প্রস্থান করেছিল। আজ আবার
নিজেই সর্বোচ্চ শীতল হয়ে চলে গেল আয়ুর অন্ধপাড়ে। আকাশের মেঘগুলো দ্রুত ছুটছে এদিক
ওদিক। এই অস্তসময়ে মেঘপিওনের আর কি খবর আছে মুমূর্ষু মাকে দেবার মত! বৃদ্ধা চোখ
বন্ধ করল। এই মাত্র যে কবর বন্ধ হয়ে গেল চিরতরে সেটা তার সামনে নয়, যেন
তার ভেতরে। সেখান থেকে বিলাপ আসছে তার নিজের কান্নার।

No comments:
Post a Comment