কিভাবে কবিতার জন্ম হয়
কিভাবে কবিতার জন্ম হয়? কখনো ভোরের সদ্য স্নান সেরে
নেমে আসা প্রেয়সীর আধা তোয়ালে আধা বাতাস ছুঁয়ে যাওয়া চুলের ক্ষুৎপিপাসার মত বিসদৃশ
প্রাকৃতিক ঘটনাগুলির পর অপেক্ষা করে থাকে এক ট্রিপি উপত্যকার জলোবাতাস। যে
জলোবাতাসে মধু জন্মেছে আবহমান কাল ধরে। যে জলোবাতাসে শাবক তিমিমাছ এক
প্রাগৈতিহাসিক আশ্বাসে ঘুমন্ত শরীরের ওজন রাখে মায়ের পিঠে। এ জলোবাতাস কারো তৈরী
করা নয়, এ জলোবাতাস স্বকীয়, মাটি
খুঁড়তে খুঁড়তে হঠাৎ খুঁজে পাওয়া কোনো মৃতদেহের গায়ে লেগে থাকা কীটের মতই। যা
আবহমান, তার জন্য আমরা মিউজিয়াম বানাই। যা অর্বাচীন ও ভঙ্গুর,
তার থালায় পড়ে থাকে সম্ভোগ। যে সম্ভোগের লৌহ প্রকোষ্ঠের ভেতর
অবস্থান করে দিগঙ্গনারা। যারা গভীর রাতে সদর দরজা খুলে দেয় বাস্তুসাপগুলিকে। সময়
যখন অন্তঃসলিলা হয় অথবা যখন প্রযুক্তির মত রাক্ষসের সাথে সহাবস্থানের মত উপযুক্ত
কমোড পেয়ে যায় মানুষ,তখন এহেন তলিয়ে যাওয়া গু ভেসে আসে
বেসিনের জলে। গুয়ের অববাহিকা থেকে কৃমির সাম্রাজ্যের কথা পাতাল থেকে অন্তরীক্ষে
উঠে আসে। প্রথম বিশ্বের কোনো রহস্যময় অঞ্চলে রাখা থাকে ভিনগ্রহীদের রেড কার্পেট।
জাপানের কোনো বনাঞ্চল বিখ্যাত হয়ে ওঠে আত্মহত্যাপ্রবন মানুষের নিবিড়তায়। একটা চামচ
মেঝেতে পড়লে সে শব্দ ফ্যানের সাথে ঝোলা দড়ির ছায়ার মত লাগে। দৃশ্য ও শব্দের এই ইকুইভ্যালেন্স
পৃথিবীর মৌলিক এককগুলির পরিবর্তন দাবি করে। সময় ভর অথবা দৈর্ঘ্য ছাড়াও কোনো এক
আদিম একরৈখিক মানুষের চিত্রকল্প ভেসে আসে। অনেক অনেক পুরোনো কোনো সময়ের কথা তার
প্রাসঙ্গিকতার দাবি রাখে যেভাবে তেলের মধ্যে ভাজা হতে থাকা একটি উদ্ভিজ্জ অনুষঙ্গ
একটি মেটা-প্রাণী স্টেটে পৌঁছায় মৃত্যুর আগে। সেই সময় অথবা সেই দৈর্ঘ্য অথবা সেই
ভর যা অপরিবর্তনীয় রয়ে গেছে। নিউক্লিয়ার যুদ্ধে একটি শহর বিসর্গ হয়ে ওঠে। সেই
বিসর্গ শহরের একমাত্রিকতায় লেখা থাকে সেই প্রাক্তন সময়ের কথা। যেখানে মানুষ শেষ হয়,সেখানে প্রাথমিক ধারণাগুলির পুনর্নবীকরণ হয়। এই টি ইকুয়াল টু জিরো তে
পৌঁছানোর মত উচ্চতা অর্জন করার বিভব বিসর্গ শহরে ফেলে রেখে মানুষ হারিয়ে যায়।
মানুষহীনতা সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে একটি মাত্রাহীন ক্রন্দসীর। ওই মানুষহীনতায় গিয়ে
পৃথিবী অপেক্ষা করে একটি আপেল পড়ার। আহা,একটি আপেল,যা আমাদের এনট্রপি ও বিবেককে সিঙ্গুলারিটি থেকে সরিয়ে দেয়। আহা একটি আপেল,যা কোনো উপবৃত্তের একটি নাভিতে অবস্থান করে। আহা, একটি
আপেল,যা এক শীতল ফ্রিজের ভেতর বসে পৃথিবীর অক্ষৌহিনী বিতংসগুলিকে
নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
স্বর্ণ-রুই
রাত্রি গভীর হলে জলের তলায় মাছগুলি পর্যাবৃত্ত ওঠানামা করে। একটি অতি প্রাচীন পুকুরের ধারে চেয়ার পেতে বসে থাকি। কিভাবে যে দৈর্ঘ্য বাড়ে তারিখের। তুমি মিশে যাও অস্তিত্বে। তোমায় নিয়ে আলাদা করে লিখে ফেলাটা দুষ্কর হয়ে ওঠে। মনে হয় এই আটপৌরে প্রাতঃরাশের মতো জ্যামহীনতা আমায় ঘিরে ধরে। কোনো বুদ্বুদের শব্দের ভিতর লালিত হতে হতে প্রভাতী চিলচিৎকারগুলিকে সাবালক করে তুলতে ইচ্ছে হয়না আর। মনে হয় এই মধ্যবিত্ততার মধ্যে বেঁচে থাকি। বাস কন্ডাক্টর চিনলো আমায়। জানলো টিকিটের আয়নায় ডুব দেয় কোনো বিকিরণপ্রধান নারীর মুখ। যার খবর অনেকদিন পাওয়া যায়না,যার আচারের বোতলে অভিমান এতো খাজুরাহো হয়ে থাকে,যে তাকে আজ কাল পরশু তরশুও রসিয়ে রসিয়ে খাওয়া যায়। শুকিয়ে আসে ঝোল। জল দিয়ে দিয়ে আঁচ বাড়িয়ে তার নির্যাসে বেঁচে থাকে পরবর্তী শ্রাবণের সম্ভাবনাগুলি।
আমি কোন জাহাজকে শিপ অফ থিসিয়াস বলবো আর কার জানুতে চেনা ক্ষতকে
চিরন্তন ভেবে ল্যামিনেশন করতে দেব এই দ্বন্দ্বপথে হাঁটতে আরম্ভ করি। কোনো নারীর
অবশিষ্ঠাংশকেই আমি ফেলে দিতে পারিনা। কারো পর্ণকুটিরের ঠিকানা জানা সত্ত্বেও আমি
তার আশেপাশে বেগুনক্ষেতে শিয়াল শিকার করে ফিরে আসি। কেউ বলে,
ফেরত দাও আমার মেডুলা অবলংগাটা। আমি চিনতে পারিনা,সবাই
মস্তিষ্কগুলি আমায় বন্ধক রাখতে দিয়ে দোল খেলবে বলে আমাকে দ্বাররক্ষার ভার দিয়ে
যায়। কেউ ছিপ ফেলে মাছগুলোকে উল্টে দিয়েই ফিরে আসবো বলেই উঠে যায়। আমি ছিপের
চরিত্র বিশ্লেষণ করতে করতে একটি স্বর্ণ-রুইয়ের গন্ধ পাই। রাত বাড়লে তার স্বরবর্ণের
মতো আঁশগুলি আমায় প্রলুব্ধ করতে আসে। আমি বুঝি এ রাত বড়োই কঠিন। দুজনেরই নেশা হয়,চেয়ে থাকে এক একটি ক্লোপেন অপাঙ্গের দিকে।অথচ কারো আগামী বর্ষায় ডিম পাড়ার
দায়বদ্ধতা সারা রাত জুড়ে একটি ব-দ্বীপ রচনা করে, যার না আছে
ত্রিমাত্রিকতা না আছে সময়-নিরপেক্ষতা। তবু বায়বীয় চেতনাহীনতায় পড়ে থাকা নির্জীব
খইদানার মতো খুন হয়ে যাওয়া একটি পরিবার থমথমে হয়ে থাকে। জলের গ্লাসও খুব ধীরে ধীরে
নামিয়ে রাখে যাতে ঐ শব্দে অবাধ্য বায়ুকণাগুলির হাসিমস্করা প্রকট না হয়ে ওঠে। কোনো
কোনো পয়গম্বরের আওয়াজ যাতে না শোনা যায়। ডিম তো ডিম ই হয়। প্রায় ইনফিনিটি
পূর্বপুরুষ যে শিশুকে তা দেয়, তার একটি ফাটল হৃদয়ঙ্গম হয়না।
আয়, একটা গল্প বলি এই প্রবোধবাক্যে একটি অক্ষিপল্লবহীন মাছও
সূর্যোদয় অব্দি বসে থাকে। এহেন সময় সংকোচনে তুমি পান্তাভাত নিয়ে বসে থাকো, গোটা পাড়াও তোমায় বুঝিয়ে ক্লান্ত হয়ে ওঠে যে প্রথম ভাতটুকু উনুনে বিসর্জন
দিতে হয়।
No comments:
Post a Comment